ব্রেকিং নিউজ
নির্দলীয় প্রতীকে হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন; বাড়ল জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা নান্দাইলে JMJ App এর মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র থার্মোমিটার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসক, ‘মন্ত্রীকে ডেকে আনেন’—হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে অপমানের অভিযোগ ধণর্ষকারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ইসলামের সাঁথিয়ায় মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ৬ জন গ্রেফতার সাগর রুনি হত্যার বিচার ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন
×

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩/৯/২০২৬, ৩:৪৯:০১ PM

নান্দাইলে JMJ App-এর মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে অবিশ্বাস্য লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে অফিস খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করা এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মূলধন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার তিন শতাধিক গ্রাহক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নান্দাইল পৌরসভার সিনেমা হল সংলগ্ন চণ্ডীপাশা মহল্লায় এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে অবিশ্বাস্য লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে অফিস খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করা এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মূলধন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার তিন শতাধিক গ্রাহক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নান্দাইল পৌরসভার সিনেমা হল সংলগ্ন চণ্ডীপাশা মহল্লায় এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে চক্রটি ‘জেএমজে’ (JMJ 168 Ltd AI) নামের একটি অ্যাপের প্রচার-প্রচারণা শুরু করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল এলাকার যুবক-যুবতী ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা।

গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে চক্রটি নানা ধরনের লোভনীয় অফার দেয়। তারা দাবি করে, এই অ্যাপে ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা, ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ দেওয়া হবে। বিভিন্ন অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে অ্যাপের মাধ্যমে লাভের টাকা উত্তোলনের (উইথড্র) ব্যবস্থাও রাখা হয়।শুরুতে কয়েকজন গ্রাহককে নিয়মিত লাভের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে এলাকায় নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে চক্রটি। পরবর্তীতে গ্রাহকদের আস্থার সুযোগ নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে বাদল দত্তের মার্কেটে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে জমকালো অফিস স্থাপন করা হয়।

অফিসে নিয়মিত সাপ্তাহিক মিটিং ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হতো। অফিসের চাকচিক্য ও নিয়মিত কার্যক্রম দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা আরও বেড়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন স্থানীয়রা।তবে গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চক্রটির প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ওই দিন চক্রটি মূল সার্ভারে সমস্যা হয়েছে বলে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা অফিস ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রাহকরা বিষয়টি জানতে অফিসে গিয়ে দেখতে পান, অফিসের দরজায় তালা ঝুলছে। পরে কোনোভাবে ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান, অফিসের যাবতীয় আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে রাতের আঁধারে সটকে পড়েছে চক্রটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে কান্না ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক জুবায়ের হোসেন, মনির মিয়া ও সুরাইয়া ইয়ামিন জানান, এই প্রতিষ্ঠানে সদস্য হতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না। শুধু নগদ টাকা ও একটি স্মার্টফোন থাকলেই সদস্য হওয়া যেত। বেশি লাভের আশায় তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন মূলধন হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত ইছমত জাহান তাপসীর ব্যবহৃত ০১৩১১-২৮৭৩৪৫ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”